মিজানুর রহমান, নিজস্ব সংবাদদাতা (চারঘাট): রাজশাহীর চারঘাটে বন্ধ হচ্ছে না কাপড়ে ব্যবহৃত রং,আটা,চিনি ও ক্যামিকেল দিয়ে খেজুর গুড় তৈরী। এসবের মিশ্রণ ঘটিয়ে শীত মৌসুমের ব্যাপক চাহিদা সম্পন্ন খেজুর গুড় তৈরীতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কার্যকর কোন উদ্যোগ। ফলে দিনের পর দিন,মাসের পর মাস ,বছরের পর বছর ধরে চারঘাটসহ আশে পাশের উপজেলায় দেদারছে তৈরী হচ্ছে ভেজাল খেজুর গুড়। তবে প্রশাসনের দাবি সংবাদ পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জরিমানা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে দ্বীমত করে স্থানীয়রা বলছেন ঢাক ঢোল পিটিয়ে লোক দেখানো অভিযানে বন্ধ হচ্ছে না এসব অবৈধ কর্মকান্ড।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুম শুরু থেকেই ব্যপক চাহিদা খেজুর গুড়ের। আর এই চাহিদাকে পুজি করে এক শ্রেণীর গুড় প্রস্তুতকারীরা কয়েক কেজি খেজুর রসের সঙ্গে চিনি, আটা, রং ও এক ধরণের ক্যামিকেলের মিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরী করছেন ভেজাল খেজুর গুড়। গুড়ের চেয়ে চিনির দাম তুলনা মুলক কম হওয়ায় এ বছর ব্যাপক ভাবে এমন অবৈধ কর্মকান্ড পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর এসব ভেজাল খেজুর তৈরীতে ও বিক্রিতে নেই কোন বাধা বিপত্তি। গুড়ে ভেজাল জেনেও এক শ্রেণীর অনলাইন ব্যবসায়ীরা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে এক নম্বর খাটি খেজুর গুড় বলে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছেন ভেজাল খেজুর গুড়। এতে চরম ভাবে প্রতারিত হচ্ছেন দেশের বেশীর ভাগ গুড় গ্রাহকরা।
রাওথা এলাকার খেজুর গুড় প্রস্তুতকারী সেতাব আলী জানান, বর্তমানে খেজুর রস জ্বাল দিয়ে শক্ত খেজুর গুড় তৈরী করা কঠিন। তাই অনেকেই অনিচ্ছাকৃত ভাবে চিনি দিচ্ছে। আবার অনেকে খেজুর গুড়ের চাহিদাকে পুজি করে অল্প দামে চিনি কিনে দেদারছে মিশাচ্ছে চিনি। বর্তমান বাজারে ১ কেজি চিনির দাম ১০০ টাকা। আর খেজুর গুড় ১ কেজির দাম ১৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। ফলে অধিক লাভের জন্যও অনেকে মেশাচ্ছেন চিনি। অপর দিকে প্রকৃত খেজুর গুড়ের রং আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে কাপড়ের রং, আটা ও এক ধরণের ক্যামিকেল।
নিমপাড়া ইউনিয়নের প্রবীন রাজনীতিবিদ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু সাঈদ হিরু জানান, আগে খেজুর গুড়ের যে আলদা ঘ্রান ছিল, এখন আর সেটা নেই। চিনি এখন সকলে খেজুর গুড়েই মেশাচ্ছে। তবে রং, আটা ও ক্যামিকেল মিশ্রণ ঠেকানো যাদের দায়িত্ব তারা থাকেন সব সময় উদাসিন। দুএকটি অভিযান চোখে পড়লেও কাজের কাজ কিছুই হয়না। ফলে প্রশাসনের অভিযান শুধুই নামেই স্বীমাবদ্ধ।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও ম্যাজিষ্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, আমিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস এর নেতৃত্বে বেশ কিছু এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। ভেজাল গুড় প্রস্তুতকারীদের ভ্রাম্যমানে জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান ধারাবাহিক ভাবে পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।
ইউকে/এমআর/এএস