চট্টগ্রামে লকডাউন বাস্তবায়নে আরও কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: সরকারের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে এখন পর্যন্ত বিনা কারণে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন অলিগলি ছাড়াও জেলার প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না কেউই। চট্টগ্রামে দিন দিন করোনা পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। সর্বশেষ একদিনেই ৬৬২ করোনারোগী আক্রান্ত হয়েছেন। তাছাড়া নয়জনের মৃত্যুর মধ্যে নগরীতে দুজন এবং উপজেলায় সাতজন রয়েছেন। সব মিলে করোনায় চট্টগ্রামে আরো কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। তাছাড়া এক দিনেই রেকর্ড আক্রান্তসহ নগরীর চেয়ে উপজেলায় মৃত্যু হয়েছে বেশি।

গতকাল প্রশাসনের একটি বৈঠকে লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কঠোর লকডাউন চলাকালীন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনসহ, সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সামাজিক দূরত্ব রক্ষা, বিনা কারণে বের না হওয়া, হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখা, যাতায়াতকারীদের তল্লাশিসহ জরিমানাও করা হচ্ছে। এ করোনা পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে মাঠে আছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের ১৪ জন এবং বিআরটিএর দুজনসহ ১৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নগরীতে যৌথ অভিযানও চলছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলেই জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি আদেশ অমান্য করে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে জরিমানা ও ডাবল জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করাসহ সড়কে ভাড়ায় চালিত যানবাহনের বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, মাস্ক পরাসহ শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনার সংক্রমণ মাত্রাতিরিক্ত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে করোনায় নয়জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আক্রান্ত হয়েছে ৬৬২ জন।

তিনি আরো বলেন, মিথ্যা অজুহাতে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। মানুষ জড়ো হওয়ার কারণে করোনার সংক্রমণ দিনের পর দিন বাড়ছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছয়টি গাড়িতে মাইক বসিয়ে নগরের অলিগলিতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পারব বলে জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ৮৯০টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৬২ জনের। এর মধ্যে নগরীতে ৪৪৯ জন এবং উপজেলায় ২১৩ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ৬১ হাজার ৫৮৯ জন। এদিন করোনায় নয়জন মারা গেছেন। এর মধ্যে সাতজন উপজেলায় এবং দুজন নগরীতে। ১৪ উপজেলার প্রায় প্রতিটিতেই বেড়েছে সংক্রমণ। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ১০ জন, সাতকানিয়ায় একজন, বাঁশখালীতে নয়জন, আনোয়ারায় ছয়জন, চন্দনাইশে দুজন, পটিয়ায় আটজন ও বোয়ালখালীতে ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। রাঙ্গুনীয়ায় ১৩ জন, রাউজানে ২০ জন, ফটিকছড়িতে ৩২ জন, হাটহাজারীতে ২১ জন, সীতাকুন্ডে ৪১ জন, মিরসরাইয়ে ৩৮ জন ও সন্দ্বীপে দুজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

চট্টগ্রামে তল্লাশি, জরিমানা, গাড়ি আটক : কঠোর লকডাউনে চট্টগ্রাম নগরীসহ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্যারটেকে কড়া তল্লাশি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী। কর্ণফুলী থানা পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও গাড়ি তল্লাশি করছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, হাইওয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। জুরুরি প্রয়োজনের কাগজপত্র, কর্মজীবীদের পরিচয়পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে গাড়ি। এতে জরিমানার পাশাপাশি গাড়িও আটক করা হচ্ছে।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, আমার এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্টে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে আটজনে উন্নীত করা হয়েছে। টহল টিমও আছে। সবচেয়ে বড় কথা সেনাবাহিনীর সদস্যরা মইজ্যারটেকসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছেন। পাশাপাশি মুমূর্ষু রোগী পরিবহনসহ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যাদের চলাফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাদের চলাচলে সহযোগিতা করছি।

ইউকে/এএস