ক্রেতার আগ্রহ বাড়ছে ডিজিটাল পশুর হাটে

বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন: সারা দেশেই লাফিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। মহামারি থামাতে চলছে সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউন। হাটে গিয়ে কোরবানির পশু কেনার সুযোগ কতটা মিলবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। এমন বাস্তবতায় হাটের অপেক্ষা না করে অনেকেই ঝুঁকছেন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। তাঁরা অনলাইনে আগেভাগেই কিনে নিতে চাচ্ছেন কোরবানির পশু।

গত রবিবার সরকারি উদ্যোগে এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল হাট। আর যাত্রা শুরুর তিন দিনের মধ্যেই ক্রেতার কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডিজিটাল হাটে মোট পশু বিক্রি হয়েছে ২৭৯টি। আর এই সময় পর্যন্ত ঢাকা জেলার পশু খামারিদের ব্যক্তিগত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে এক হাজার ২৪২টি।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফারমারস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিএফএ) অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের খামারগুলো এই ডিজিটাল হাটে তাদের পশু বিক্রি করতে পারবে। এই হাট থেকে ক্রেতারা দুটি উপায়ে কোরবানির পশু কিনতে পারেন। এক. সরাসরি ক্রেতা-বিক্রেতা দরদাম করে অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে। দুই. বাংলাদেশ ব্যাংকের এস্ক্রো পদ্ধতি মেনে। এস্ক্রো পদ্ধতিতে ক্রেতা গরু কিনে টাকা জমা দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে। এই টাকা তাত্ক্ষণিক সরাসরি বিক্রেতার হাতে যাবে না। ক্রেতা গরু বুঝে পাওয়ার পর কোনো অভিযোগ নেই জানানোর পর বিক্রেতা গরুর দাম হাতে পাবেন। গতকাল পর্যন্ত ডিজিটাল হাটে বিক্রি হওয়া ২৭৯টি কোরবানির পশুর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এস্ক্রো পদ্ধতি মেনে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৬০টি পশু।

রাজধানীর গুলশানের বাসিন্দা আহনাব হোসেন গরু কিনেছেন ডিজিটাল হাট থেকে। তিনি বলেন, ‘এই করোনার মধ্যে নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার কথা ভেবে সরাসরি কোরবানির হাটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছি। এই সময়ে ডিজিটাল হাটের উদ্যোগটা আমাদের সবার জন্যই একটি পজিটিভ বিষয়। অধিকসংখ্যক লোক এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে কোরবানির পশু কিনলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমবে বলে আমি মনে করি।’

এদিকে ডিজিটাল হাটের বাইরে ঢাকা জেলার খামারিদের ব্যক্তিগত অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও চলছে কোরবানির পশুর কেনাবেচা। ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে, গতকাল দুপুর থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা জেলায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পশু বিক্রি হয়েছে ২৪৬টি। গতকাল বিকেল পর্যন্ত এ নিয়ে এ বছর ঢাকা জেলায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মোট কোরবানির পশু বিক্রির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৪২টি।

ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. কাজী রফিকুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে অনলাইনে পশু বিক্রির এই তথ্য সংগ্রহ করি। তবে আমাদের কাছে সব খামারির তথ্য নেই। ফলে এখন পর্যন্ত অনলাইনে বিক্রি হওয়া পশুর প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে। এ ছাড়া করোনার মধ্যে মানুষকে অনলাইনে পশু কেনাবেচার জন্য জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে ঢাকার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে ফেসবুক পেজ খুলে পশু কেনাবেচায় সাহায্য করা হচ্ছে।’

শুধু রাজধানীতেই নয়, সারা দেশেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোরবানির পশু কেনাবেচা। বিক্রেতারা বলছেন, শুরুর দিকে ক্রেতা কম থাকলেও এখন ব্যাপক সাড়া মিলছে। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই আস্থা তৈরি হচ্ছে অনলাইন হাটে।

এদিকে করোনার মধ্যে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের পশু ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোরবানির পশু বিকিকিনিতে উদ্বুদ্ধ করতে এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

ইউকে/এএস