দণ্ডের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর উপহার 

কক্সবাজার সংবাদদাতা: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আটকের পর নিশ্চিত ছিল জেল-জরিমানা। কিন্তু তার পরিবর্তে ৪০ জন ইজি বাইকচালকের হাতে তুলে দেওয়া হয় এক সপ্তাহের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের খাদ্যসামগ্রী। দণ্ডের পরিবর্তে খাবার পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন কর্মহীন এই মানুষগুলো। ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উখিয়া উপজেলায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৪০টি ইজি বাইক আটক করা হয়।

লকডাউন অমান্য করে চালকরা রাস্তায় বেরিয়েছিলেন যাত্রী পরিবহন করতে। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একে একে ৪০ জন ইজি বাইকসহ চালক আটক হন। ইজি বাইকসহ ৪০ জন চালককে উপজেলা পরিষদ ভবনসংলগ্ন মাঠে আটক করে রাখেন ইউএনও।

কয়েক ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর যখন দণ্ডাদেশ ঘোষণার প্রস্তুতি চলছিল, চালকরা সবাই তখন ‘পেটের দায়ে’ লকডাউন অমান্য করে রাস্তায় নামার কথা জানান।

এ সময় উখিয়া উপজেলার লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণরত কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি উখিয়া উপজেলায় করোনা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতির মধ্যেও কেন ইজি বাইকচালকরা রাস্তায় নামলেন তা জানতে চান। আটক ৪০ জন ইজি বাইকচালক জানালেন, পরিবারের খাবার জোগাড় করতেই তাঁরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।

জেলা প্রশাসক এ ঘটনা জেনে কোনো চালককে জরিমানা না করে উল্টো তাঁদের প্রত্যেককে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের মানবিক সহায়তার ১০ কেজি চাল, দুই কেজি ডাল, এক কেজি তেল, এক কেজি লবণ, এক কেজি চিনি ও এক কেজি ছোলা দেন।

জেলা প্রশাসক ও ইউএনও যখন জেল-জরিমানা না করে ইজি বাইকচালকদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারসামগ্রী তুলে দিচ্ছিলেন তখন তাঁরা আনন্দে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। ইউএনও বলেন, আটক ইজি বাইকগুলো লকডাউন শেষে চালকদের ফেরত দেওয়া হবে।

ইউকে/এএস