নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সব নাগরিকের জন্য সমতা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বৈষম্যের শিকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, সংবিধানে সমতার অঙ্গিকার থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনো বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহী মহানগরীর হোটেল ওয়ারিশনে বৈষম্য বিলোপ আইনবিষয়ক বিভাগীয় পর্যায়ের সংলাপে বক্তারা এই আহ্বান জানান। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন- লাইট হাউস অর্গানাইজেশনের উপদেষ্টা ওয়াহিদা ইয়াসমিন। সূচনা বক্তব্যের পর সংলাপ সঞ্চালনা করেন অনগ্রসর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (আসুস) নির্বাহী পরিচালক রাজকুমার শাও। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের তরুণ সমাজ ও সামাজিক সংহতি বিভাগের প্রধান ওয়াসিউর রহমান তন্ময়।
অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ কর্মসূচির আওতায় সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
এতে লাইট হাউস কনসোর্টিয়ামের অংশীদার আসুস সহযোগিতা করছে। স্বাগত বক্তব্যে রাজকুমার শাও বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত হয় না; এর কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি। বৈষম্যের শিকার ব্যক্তিরা যেন সহজে আইনি সহায়তা ও প্রতিকার পান, সে জন্য বাস্তবসম্মত ও সহজলভ্য আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
মূল প্রবন্ধে ওয়াসিউর রহমান তন্ময় বলেন, দলিত, চা-শ্রমিক, বেদে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও জেন্ডার বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায় নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার। সংবিধান ও বিভিন্ন নীতিমালায় সমতার অঙ্গীকার থাকলেও বৈষম্য প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য দেশে এখনো সমন্বিত আইন নেই।
সংলাপে উপস্থিত বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত আইনে বৈষম্যের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, সহজ অভিযোগ ব্যবস্থা, কার্যকর প্রতিকার, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সুরক্ষা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিধান থাকতে হবে। পাশাপাশি বৈষম্যমূলক সামাজিক আচরণ পরিবর্তনে কার্যকর উদ্যোগ ও আইন বাস্তবায়নে শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়াহিদা ইয়াসমিন বলেন, সংলাপে উঠে আসা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রস্তাবিত আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংলাপে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোবারক সিদ্দিকী ও অধ্যাপক আব্দুল আলিম, রাজশাহী তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক নাফেয়ালা নাসরিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মোছা. আসমা মাহমুদ, রাজশাহী জজ কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সামসুন্নাহার মুক্তি, রুলফাওয়ের নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন, বিউপির নির্বাহী পরিচালক ফয়জুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রাজশাহীর সভাপতি কল্পনা রায়, দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, বাসসের রাজশাহীর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আইনুল হক, ব্লাস্ট রাজশাহীর সমন্বয়কারী সামিনা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি গণেশ মার্ডি, সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা সরকার বিজলীসহ সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ অংশ নেন।
ইউকে/আরএ/এসএস